” দেশের ৭৮% তামাকপণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান হচ্ছে ” —সংবাদ সম্মেলনে টিসিআরসির গবেষণার ফলাফল প্রকাশ

তারিখঃ ২৩ এপ্রিল, ২০১৯

দেশের ৭৮% তামাকপণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান হচ্ছে, যদিও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার সকল উপধারা অনুযায়ী সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের হার মাত্র ২৬%। গত ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ সেল, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত “তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাস্তবায়ন- বর্তমান অবস্থা” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য উঠে আসে। জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রাক্তন সমন্বয়কারী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অবঃ) জনাব মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী ও যুগ্ম সচিব জনাব মোঃ খলিলুর রহমান, জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের ইপিডিওমোলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, আন্তর্জাতিক সংস্থা দি ইউনিয়ন-এর কারিগরি পরামর্শক এ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল জনাব হেলাল আহমেদ, এইড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জনাব আমিনুল ইসলাম বকুল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস্ এর বাংলাদেশ গ্রান্টস ম্যানেজার মোঃ আব্দুস সালাম মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিসিআরসির গবেষণা সহকারী ও প্রকল্প কর্মকর্তা ফারহানা জামান লিজা। তিনি বলেন, গত ১৯ মার্চ ২০১৬ হতে তিন বছর ধরে এই সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদান করা হচ্ছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ হতে ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত দেশের ৮ বিভাগের ৮টি জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়, ৭৮% তামাকপণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫০% এলাকা জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণের হার ৪২% থেকে ৭১% উন্নীত হয়েছে। যদিও মোড়কের উভয় দিকে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের হার অসন্তোষজনক। তিনি আরো বলেন, আমাদের অনেক সফলতা এসেছে। কার্টনেও সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর মুদ্রণ শুরু হয়েছে। বিড়ির মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী ব্যান্ড রোল দিয়ে ঢাকা থাকার হার ৯০% থেকে কমে ৫৪% হয়েছে। এই সাফল্যের ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। তবে এর পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যর্থতার কথাও তিনি তুলে ধরেন। সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানে দীর্ঘ ৩ বছর ধরে অর্ন্তবর্তীকালীন নির্দেশনা বহাল থাকা এবং আইনের সব উপধারা মেনে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের হার নিয়ে তিনি আক্ষেপ করেন। ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মোড়কের নিচে বা উপরে মুদ্রণ করা থেকে উত্তোরণের সময় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সমস্যার সমাধানে মোড়কের ৯০% এলাকা জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের কোন বিকল্প নেই। এছাড়া বিড়ি, জর্দ্দা ও গুলের ক্ষেত্রে মোড়কের ভিন্নতা, সাইজের ভিন্নতা, মানসম্মত মোড়ক না থাকা, সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের উপযুক্ত মোড়ক না করা, অতি ছোট মোড়কসহ বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতার একমাত্র সমাধান হতে পারে অভিন্ন মোড়ক (টহরভড়ৎস চধপশধমরহম) প্রবর্তন। অবিলম্বে সরকারকে এধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেন তিনি।

টিসিআরসির সদস্য সচিব ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব বজলুর রহমানের সঞ্চালনায় উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন ডব্লিউবিবি ট্রাষ্টের প্রকল্প কর্মকর্তা শুভ কর্মকার, নাটাবের প্রকল্প সমন্বয়কারী জনাব এ কে এম খলিলুল্লাহ, এইড ফাউন্ডেশনের এডভোকেসি অফিসার আবু নাসের অনিকসহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের বিভিন্ন সদস্য সংগঠন, তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিকবৃন্দ ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।