ধোঁয়াবিহীন তামাক ও বিড়ির কোম্পানি শতভাগ স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর বিধান লঙ্ঘন করে

ছবিসহ স্বাস্থ্যসতর্কবাণী সংক্রান্ত বিধান পাশের ২১ মাস পরও সকল (১০০%)  ধোঁয়াবিহীন তামাক ও বিড়ির কোম্পানিগুলো আইনের বিধান লঙ্ঘন করে তামাকজাত পন্য বিক্রয় করছে। সকল দেশীয় ও মাল্টি ন্যাশনাল তামাক কোম্পানিগুলোর কোনটাই আইন অনুসারে কার্টনে সতর্কবাণী প্রদান করছে না। বিক্রয়স্থলে আইনভঙ্গ করে সকল কোম্পানি বিজ্ঞাপন প্রচার ও প্রচারণা চালাচ্ছে। খুচরা সিগারেট ও বিড়ি ক্রয়ের কারণে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবানীর বিধান কাছে আসছে না। দেশের ৮ বিভাগের ৮ টি জেলায় টোব্যাকো কন্ট্রোল এন্ড রিসার্স সেল কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণায় এ তথ্য উঠে আছে। গবেষণা প্রকাশ সংক্রান্ত সংবাদসম্মেলেন এ তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি আইনের সহজ ও কার্যকর বাস্তবায়নে বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্যের জন্য স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ব্যবস্থা এবং খুচরা বিক্রয় বন্ধের দাবি জানানো হয়।

২৮ জানুয়ারি ২০১৮ জাতীয় প্রেসক্লাবের “আইন অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবানী বাস্তবায়ন-বর্তমান অবস্থা” শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নাটাবের নির্বাহী পরিচালক মোঃ কামাল উদ্দিন, দ্য ইউনিয়নের কারিগরি পরামর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারি হেলাল আহমেদ, ডাব্লিউবিবি ট্রাষ্টের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সৈয়দা অনন্যা রহমান, সিটিএফকের প্রোগ্রাম অফিসার আতাউর রহমান মাসুদ। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. শাহ আলম চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, টিসিআরসির সহকারী গবেষক ও প্রকল্প কর্মকর্তা ফারহানা জামান লিজা।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                গবেষণায় দেখা যায় শতভাগ সিগারেটের কার্টনেই সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবানী নেই। অথচ সিগারেট বিক্রয়কেন্দ্র গুলিতেই নয়, সারাদেশের অজ¯্র ছাপাখানা, পুরানো কার্টনের দোকানসহ অন্যান্য স্থানে এই কার্টনের ছড়াছড়ি। অন্যদিকে, ৩৩% সিগারেটের মোড়কে “শুধুমাত্র বাংলাদেশে বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত” মর্মে বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। এছাড়া আইনের নিষেধাজ্ঞা সর্ত্ত্বেও ২৯% মোড়কে ব্যান্ড এলিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে।  বিড়ির ক্ষেত্রে কোন বিড়ির মোড়কেই উভয় পার্শ্বে সতর্কবাণী পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ যে সকল মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী পাওয়া গেছে, তারমধ্যে ৭৫% ছবিই অস্পস্ট। এছাড়াও ৯৫% শতাংশ ছবিই ব্যান্ড রোল দিয়ে ঢাকা। আবার ২৫% ছবি রঙিন নয় এবং ২০% ক্ষেত্রে চলতি মেয়াদের ছবি পাওয়া যায়নি। ৮০% আইন অনুযায়ী কালো জমিনে সাদা অক্ষরে মুদ্রণ করা হয়নি। ২০% মোড়কেই ৫০ শতাংশ এলাকা জুড়ে ছবি প্রদান করেনি এবং ৭৫% ক্ষেত্রে ছবি ও লেখার অনুপাত আইন অনুযায়ী ৬:১ ছিল না। জরিপকৃত কোন মোড়কেই “শুধুমাত্র বাংলাদেশে বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত” মর্মে বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।

গবেষণার তথ্যানুসারে ২০১টি জর্দ্দার মোড়কের ৮১% ক্ষেত্রেই সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মোড়কের উভয় পাশে প্রদান করেনি কোম্পানিগুলো। ৬১% ছবি আইন অনুযায়ী ৫০ শতাংশ এলাকা জুড়ে প্রদান করা হয়নি এবং ৩০% ছবিই চলতি মেয়াদের ছিল না। ১১% ছবিই ছিল অস্পষ্ট এবং ১০% ক্ষেত্রে রঙিন ছবি পরিলক্ষিত হয়নি। ৪০% ক্ষেত্রে লেখা ও ছবির অনুপাত ৬:১ পরিলক্ষিত হয়নি। ২৫% লিখিত বার্তা কালো জমিনে সাদা অক্ষরে প্রদান করেনি। এছাড়া ১৩% ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ছবি না দিয়ে বরং বিদেশী ছবি প্রদান করেছে। মোট জরিপকৃত জর্দ্দার ৮২% ক্ষেত্রেই আইন অনুযায়ী “শুধুমাত্র বাংলাদেশে বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত” মর্মে বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।  গুলের ক্ষেত্রে ৭৬% ছবি আইন অনুযায়ী ৫০ শতাংশ এলাকা জুড়ে প্রদান করা হয়নি। ৩৫% সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মোড়কের উভয় পাশে প্রদান করেনি কোম্পানিগুলো। ৪১% ছবিই ছিল অস্পষ্ট এবং ২৪% ক্ষেত্রে রঙিন ছবি পরিলক্ষিত হয়নি। ২৪% পণ্যে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ছবি প্রদান না করে বরং বিদেশী ছবি প্রদান করেছে। ২৯% ছবিই চলতি মেয়াদের ছিল না এবং ৪১% লিখিত বার্তা কালো জমিনে সাদা অক্ষরে প্রদান করেনি। ৫৯% ক্ষেত্রে লেখা ও ছবির অনুপাত ৬:১ পরিলক্ষিত হয়নি। মোট জরিপকৃত গুলের ৮৩% ক্ষেত্রেই আইন অনুযায়ী “শুধুমাত্র বাংলাদেশে বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত” মর্মে বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।

টিসিআরসির প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ বজলুর রহমানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে এইড ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, তাবিনাজ, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, প্রত্যাশা, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সাইন্স, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস, নাটাবসহ বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।